নতুন সংকটের মুখে পড়েছে এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হংকংয়ের বাণিজ্যিক সম্পত্তি বা কমার্শিয়াল প্রপার্টি খাত। অঞ্চলটির ছোট ও মাঝারি আকারের ডেভেলপারদের পাশাপাশি ব্যাংক খাতও ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। সম্পত্তি খাতের পরামর্শক সংস্থা জেএলএল এ পরিস্থিতির জন্য বাণিজ্যিক সম্পত্তির বাজারমূল্য হ্রাস ও লিজিং কার্যক্রমে ধীরগতিকে দায়ী করছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
জেএলএল হংকংয়ের চেয়ারম্যান জোসেফ স্যাং জানিয়েছেন, চলতি বছরে শহরটির বাণিজ্যিক সম্পত্তির বাজারমূল্য আরো ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। পড়তি দামে বাণিজ্যিক সম্পত্তি বিক্রি বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জোসেফ স্যাং এক সতর্কবার্তায় জানান, এ সংকট আবাসিক সম্পত্তি খাত বিশেষ করে সম্পত্তি খাতের বিলাসবহুল অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ বাণিজ্যিক সম্পত্তির মালিক বা বিনিয়োগকারী বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তিরও মালিক। তারা যদি ঋণ পরিশোধে ব্যাংকের চাপে পড়েন, তখন নগদ অর্থের একমাত্র উৎস হবে আবাসিক সম্পত্তি বিক্রি।’
হংকংয়ের বাণিজ্যিক ভবনে অফিস ও দোকানের জন্য বরাদ্দ অংশে ক্রেতাশূন্যতার হার ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভাড়া বাবদ আয় কমে যাচ্ছে। জেএলএলের তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) খালি থাকা অফিস স্পেসের হার সামগ্রিকভাবে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছে, যা আগের ছয় মাসে ছিল ১৩ দশমিক ২। এছাড়া জানুয়ারি-জুনে হংকংয়ের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোয় অফিস ভাড়া ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, আগের বছর ভাড়া কমার হার ছিল ৯ দশমিক ১। অর্থাৎ অফিস ভাড়া কমার পর অব্যাহত রয়েছে। শহরটিতে অফিস ভাড়া সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেঁৗছে ২০১৯ সালে। ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত ভাড়া কমেছে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।
চলতি বছর হংকংয়ে অফিস ভাড়া আরো ৫ শতাংশ কমার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জেএলএলের হংকং আইল্যান্ড শাখার অফিস লিজিং পরামর্শ বিভাগের প্রধান স্যাম গুরলে।
অন্যদিকে খুচরা বা রিটেইল খাতের অবস্থা ভালো নয়। জুন শেষে প্রধান শপিং সেন্টারে দোকানের জন্য বরাদ্দ স্পেস খালি থাকার হার রেকর্ড ১০ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে এবং ভাড়া কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। শহরের ব্যস্ত সড়কের পাশে দোকান খালি থাকার হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশে স্থিতিশীল থাকলেও ভাড়া কমেছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
জেএলএলের রিটেইল বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর জেনেট চ্যান জানান, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রায় ছয় লাখ বর্গফুট নতুন প্রাইম রিটেইল স্পেস নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা, ফলে খালি থাকার হার আরো বাড়বে এবং ভাড়া ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
হংকংয়ের বাণিজ্যিক সম্পত্তি খাতে প্রায় ছয় বছর ধরে মন্দা চলছে। এটি এখন অনেক ডেভেলপারের জন্য মাথাব্যথার কারণ। ডেভেলপার গ্র্যান্ড মিং গ্রুপ বিনিয়োগকারীদের গত সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা এখনো ৪৮০ কোটি হংকং ডলার বা ৬১ কোটি ১৪ লাখ ডলারের সমতুল্য ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি।
গ্র্যান্ড মিং অঞ্চলটিতে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিতীয় ডেভেলপার, যারা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলো। এর আগে এম্পেরর ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস জানিয়েছিল, জুন শেষে তাদের ১ হাজার ৬৬০ কোটি হংকং ডলারের ঋণ বাকি রয়েছে।
জেএলএলের জোসেফ স্যাং বলেন, ‘ব্যাংকগুলো পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে তারা সমঝোতায় আসতে পারে। তবে ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পরিস্থিতি বদলেও যেতে পারে।’
ব্যাংকগুলোর প্রথমার্ধের আয় প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশিত হবে, যা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ইঙ্গিত দেবে। কিন্তু এরই মধ্যে জোসেফ স্যাং পূর্বাভাস দিলেন, ‘আমি ব্যাংক খাত নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন।’